You are currently viewing How to plan a roof garden in bengali | ছাদ বাগানের জন্য কি করবেন

How to plan a roof garden in bengali | ছাদ বাগানের জন্য কি করবেন

Plan a roof garden in bengali – বাংলায় লেখার একমাত্র কারন শুধুমাত্র তোমাদের জন্য। আমরা প্রায়শয় ভাবি আমারও ছাদে যদি খুব সুন্দর একটা বাগান থাকত। বাগান করতে আমার কেন সবার ভালো লাগে। আর যারা ফ্ল্যাট বাড়ীতে থাকে তাদের জন্য ছাদই একমাত্র জায়গা। কিন্তু ছাদে বাগান করার জন্য বেশ কিছু জিনিষ আছে যেগুলো প্রয়োজন হয়। যেমন, টবের জন্য মাটি বানানো, টবের আয়তন ইত্যাদি।

আমার এই তথ্য যদি কোন ভাবে আপনার ভালো লেগে থাকে প্লিজ প্লিজ নিজের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন আপনার একটা শেয়ার আমার এই তথ্য হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌছে যাবে।

Table of Contents

Introduction | শুরুর কথা যেটা না জনলেই নয়

plan a roof garden বা ছাদ বা বারান্দায় ফুলচাষ ছাদে প্রচুর পরিমাণে রােদ পাওয়া যায়। তাই ছাদে বাগান করার মত এমন ফুল গাছ নির্বাচন করতে হবে যেগুলি প্রচুর সূর্যালােক পছন্দ করে। ছায়াশ্রয়ী গাছ যদি ছাদে লাগানাে হয়, তাহলে তাকে ছাদের বাগানে লাগিয়ে হাজার চেষ্টা করেও বাঁচানাে যাবে না। | সেই কারণে ছাদে বাগান করতে হলে অভিজ্ঞ লােকের সঙ্গে পরমার্শ করে গাছ নির্বাচন করা উচিত।

roof garden How to plan a roof garden

গােলাপ, রজনীগন্ধা, বেলফুল, মল্লিকা, যাই প্রভৃতি আরও নানারকমের গাছ নির্বাচন করা যেতে পারে। এছাড়া বাহারী গাছ, সুগন্ধী ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিকারী ফুলের গাছ চাষ করলে সামগ্রিক ভাবে। পরিবেশের শ্রীবৃদ্ধি ঘটে। এমন গাছ ছাদে লাগাতে হবে যেগুলি দূর থেকে দেখা যাবে এবং যেগুলির ফুল হবে বেশ সুন্দর রঙিন-বাহারী। এই জন্যে। ছাদে ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, গাঁদা, জিনিয়া, বােগেনভিলিয়া এবং অন্য বেশ কয়েকরকম মরসুমী ফুল নির্বাচন করা যেতে পারে।

মাটি তৈরি ছাদের ওপর ফুলবাগান করতে হলে কতকগুলি নির্দিষ্ট আকৃতির মাটির টব, কাঠের বাক্স, প্ল্যাষ্টিকের টব ইত্যাদি সংগ্রহ করতে হবে। ঐসব টবে প্রয়ােজনীয় মাটি তৈরি করে ভরতে হবে। অভিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী নানা ধরনের মাটি তৈরি করে টবে ভরতে হয়। ছাদের উপর টবে দীর্ঘকাল ধরে যে সব গাছ থাকবে সেগুলির জন্যে বিশেষ রকমের মাটি তৈরি করতে হয়। আবার যে সকল ফুল একটা মরসুমে ফুল দিয়ে মরে যায়। সেগুলির জন্যে দরকার হয় অল্প দিনের চাষ উপযােগী মাটি।

Making the soil | মাটি তৈরি করা

টবের মাটি কয়েক রকম ভাবেই তৈরি করা যেতে পারে।

  1. পচা গােবর সার ৩ ভাগ + দো-আঁশ মাটি ৩ ভাগ ” ১০০/১২৫ গ্রাম + কাঠকয়লা গুঁড়াে সামান্য + কম্পােস্ট ১ ভাগ।
  2. দো-আঁশ মাটি ৩ ভাগ + সুপার ফসফেট ৩০ গ্রাম * হা ১০০ গ্রাম + সালফেট অব পটাস ২৫ গ্রাম + কম্পােস্ট সার 
  3. দো-আঁশ মাটি ৩ ভাগ + পচা গােবর সার ২ ভাগ + পাতাপচা সার ১ ভাগ।
  4. দো-আঁশ মাটি ২ ভাগ + পাতাপচা সার ২ ভাগ + মুরগীর লিটার ( ৮-৯ মাসের পুরােনাে) ১ ভাগ।
  5. দো-আঁশ মাটি ২ ভাগ + এগ্রোমিন ১০০ গ্রাম + পাতাপচা সার ১ ভাগ + গােবর পচা সার ২ ভাগ।
  6. অনেক ক্ষেত্রেই এদের সঙ্গে ১০-১৫ গ্রাম চুন দরকার হতে পারে। কারণ মাটির অম্লত্ব বা ক্ষারত্বের প্রভাবে গাছের বৃদ্ধিও কম-বেশি হয়। গোবর সারের বদলে গোবর গ্যাস প্ল্যান্টের স্লাজও খুবই কাজের হয়।

হাড়ের গুঁড়াে দু’ধরনের বাজারে পাওয়া যায়। একটি কঁচা, অন্যটি স্টিমড় ও স্টিমড় হাড়ের গুঁড়ােতে দ্রুত ফল পাওয়া যায়। আমাদের দেশে পটাস-এর জন্যে মিউরেট অব পটাস-এর ব্যবহার জনপ্রিয়। অভিজ্ঞ চাষীরা বলেছেন, সালফেট অব পটাস ফুল গাছের পক্ষে আরও বেশি উপকারী। নানা অনুপাতে মিশ্রিত মাটি দীর্ঘজীবী গাছ লাগানাের জন্যে বড় টবে (২৫-৩০ সে. মি) ব্যবহার। করা হয়। টবগুলি পূর্বোক্ত পদ্ধতিতে খােলামকুচি, ইটের টুকরাে, বালি ও মাটি দিয়ে ভর্তি করে গাছগুলি লাগানাে হয় ও পরে পর্যাপ্ত জল দিয়ে কিছুদিন ছায়ায় রাখতে হয়। ছাদের উপর গাছ ধরে গেলে মুক্ত স্থানে নিয়ে এসে রাখা যায়। এভাবে গাছ রাখলে, প্রয়ােজন মতাে জল ও সার দেওয়া যায় এবং বর্ষার সময় বেশি বৃষ্টি হলে টবগুলি কাত করে জল বের করে দিলেই চলবে।

Potting a new tree and change the old one | টবে চারাগাছ লাগানো ও চারা গাছ পাল্টানো

টবের নিচে ফুটো করে তার উপরে খােলামকুচি, হাঁড়ি ভাঙা প্রভৃতি চাপা দেওয়া দরকার না হলে জল বেরিয়ে যেতে অসুবিধা হতে পারে। বড় টবে ফুটো সামান্য বড় হবে এবং তার উপর মাটির ছােট খুরি চাপা দিতে হবে। চাপা দেওয়া ঐ খুরিটা উল্টোদিকে বসিয়ে তার উপর ছােট পাথর, ইট কুচি, খােলামকুচি এবং যে কোনাে ভাবে বালি ও মাটি দিয়ে টবটি ভর্তি করতে হবে। বহুবর্ষজীবী গাছের পক্ষে ভাঙা খােলামকুচি বা ইটের কুচির উপর ২ সে. মি. পুরু করে নারকেল ছােবড়া বিছিয়ে দিলেও অতিরিক্ত জল ঝরে যায়।

How to plan a roof garden in bengali

কিন্তু মাটি ধুয়ে বেরিয়ে যেতে পারে না। টব পালটাবার সময় খুব করে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন গাছের কাণ্ডটি সমপরিমাণ মাটির নিচে গ্রীষ্মকালে টবের উপরের খালি অংশ কাটা খড়ের কুচি বা নারকেল ছোবড়া সরিয়ে সারযুক্ত মাটি দিয়ে ভর্তি করতে হবে। টবে দীর্ঘজীবী গাছ লাগাবার শ্রেষ্ঠ সময় হলাে বর্ষার শুরুতেই। কিন্তু মরসুমী ফুলে মরসুম অনুযায়ীই চারা লাগানাে হয়ে থাকে।

দেখা গেছে এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই দীর্ঘজীবী গাছের মূল বেড়ে টব ভর্তি হয়ে গেছে। সার বা মাটির খাদ্যও দীর্ঘজীবী গাছ এই সময়ের মধ্যেই সব শেষ করে ফেলে। এমত অবস্থায় মাঝে মাঝে বা বছরে একবার টবের মাটি পাল্টে দিতে পারলে ভালাে হয়। এরপর তিন বছরের মাথায় টবের সমস্ত মাটিটাই পাল্টে দিতে হয়। বর্ষাকালে ঝিরঝিরে বৃষ্টির মধ্যে টবের মাটি সম্পূর্ণ বা আংশিক বদলে দেবার শ্রেষ্ঠ সময়। মাটি সম্পূর্ণভাবে বদলাবার সময় দরকার মতাে গাছের শাখা-প্রশাখা ও শেকড় কেটে দেওয়া যেতে পারে।

Basic care of a pot tree | টবের গাছে পরিচর্যা

সেচ ও সার প্রয়ােগ হলাে টবের দীর্ঘজীবী গাছের প্রধান যত্ন-পরিচর্যা। টবে গাছ লাগানাের দিন থেকে সাত দিনের মধ্যে এমনভাবে জল দিতে হবে যাতে টবের মাটি সর্বদা ভিজে ভিজে থাকে। টবের মাটি শুকোলেই অল্প অল্প করে জল দিতে হবে। জৈব ও রাসায়নিক সার দেবার পরও এমনভাবে জল দেওয়া দরকার যাতে টবের মাটি অন্ততঃ দিন তিনেক ভেজা থাকে। টবের গাছে তরল সার দেবার এক ঘণ্টা আগে ও পরে জল দেওয়া উচিত।

জল দেওয়ার কোনাে ধরা বাঁধা নিয়ম নেই। প্রয়ােজনে দিনে দুই বেলাই জল দেওয়া চলতে পারে। গ্রীষ্মকালের গরমে বিকালের দিকে রােদ পড়লে পাতায় জল স্প্রে করতে পারলে খুবই ভালাে হয়। কলের জল ” পলিথিনের পাইপে জল দেওয়া যেতে পারে। অভাবে মগ বা ঝারির ব্যবহার চলে।

how to take care of a young tree

চাপান হিসেবে জৈব বা রাসায়নিক সার ব্যবহার করা যায়। প্রয়ােগ করা যেতে পারে। সাধারণতঃ ছাদে বড় টবে দীর্ঘজীবী গাছ বসানাে হলে জৈব সার ব্যবহার করা হয়। এর কারণ সম্ভবত রাসায়নিক সারের ব্যবহারে টব নষ্ট হবার ভয়। সাধারণ হাটে, বাজারে যে টব পাওয়া যায় সেগুলি রাসায়নিক, বিশেষভাবে নাইট্রোজেন ঘটিত, সারের বিক্রিয়ায় নষ্ট হ’বার সম্ভাবনা থাকে, তবে প্ল্যাস্টিকের টব বা প্যাকেট ব্যবহার করলে রাসায়নিক সার ব্যবহারজনিত ক্ষতির সম্ভাবনা কম।

এইসব গাছে ফুল আসবার আগে (একমাস) ও বর্ষার আগে প্রতিটি টবে একমুঠো করে মিশ্র সার প্রয়ােগ করা উচিত। 

মিশ্র সার তৈরি করতে হলে, ৪ ভাগ সরষের খােল, ২ ভাগ ডাই-এ্যামােনিয়াম ফসফেট, ২ ভাগ পটাসিয়াম সালফেট ও ২ ভাগ এগ্রোমিন বা চেলাজিন একসঙ্গে ভালাে করে মিশিয়ে, প্রয়ােজনমতাে ব্যবহার করা যায়। তবে মিশ্রণটিতে জল বা জলীয় বাষ্প লাগলে গলে যেতে পারে।

বেশির ভাগ কন্দজ ফুলের গাছে তরল জৈব সার প্রয়ােগ করতে পারলে ভালাে ফুল পাওয়া যায়। আসল কথা হলাে, বেশির ভাগ ফুল গাছেই ফুল ফোটার মাস খানেক আগে জারিত জৈব সার প্রয়ােগ করতে পারলে ভালাে ফুল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। রাসায়নিক সার টবে দিতে হলে কিছু মাটি সরিয়ে তার মধ্যে ছড়িয়ে উপরে মাটি চাপা দেওয়া উচিত। | মরসুমী ফুলের জন্যে চারা রােপনের ১০-১৫ দিন পর, ১০ ইঞ্চি বা ২৫ সে. মি. টবে, এক চা-চামচ ডাই-অ্যামােনিয়াম ফসফেট এবং আরও ১৫ দিন পরে এবং কুঁড়ি ধরলে আরও একবার দুই চা-চামচ ডি. এ. পি. এবং এক চা-চামচ সালফেট অব পটাস প্রয়ােগ করতে হবে। গাছে কুঁড়ি এলে তরল সার দেওয়াই উচিত। তিন ভাগ ক্যালসিয়াম এ্যামােনিয়াম নাইট্রেট + তিন ভাগ সুপার ফসফেট + এক ভাগ সালফেট অব পটাস একসঙ্গে মিশিয়ে এই মিশ্রণের ১০ গ্রাম ৫ লিটার পরিমাণ জলে গুলে তরল সার তৈরি করতে হয়। পাতায় তরল সার প্রয়ােগ খুবই কার্যকরী। এই তরল সারটি পাতার উপরে স্প্রে করলেই ভালাে ফল পাওয়া যাবে।।

Types and size of Pot | টবের আয়তন

গাছ কততদিন টবে থাকবে, কি পরিমাণ মাটি ধরবে, সেজন্যে কি পরিমাণ সার ও মাটি তৈরি করতে হবে এইসব কথা জানা না থাকলে অসুবিধা হতে পারে। এছাড়া পুষ্প প্রদর্শনীতে টবের গাছই প্রদর্শনের জন্যে নেওয়া যায়। তাই টবের আয়তন আমাদের জানাতেই হবে ইচ্ছুক প্রতিযােগিদের।

various types of pot size available in market

চন্দ্রমল্লিকা ও অন্যান্য মরসুমী ফুলের জন্যে ৮ ইঞ্চি বা ২০ সে. মি. আয়তনের টব সবচেয়ে বেশি উপযােগী। এই রকমের এক একটি টবে সাড়ে তিন কে. জি. পর্যন্ত মাটি ধরতে পারে। ডালিয়ার জন্যে ১০ ইঞ্চি বা ২৫ সে. মি. টবের প্রয়ােজন। এই আকারের টবে ৬ কে. জি, মাটি ধরে। গােলাপের জন্যে এর চেয়েও বড় ১২ ইঞ্চির (৩০ সে. মি.) আয়তনের টব দরকার। এমন টবে ৯-১০ কে. জি. মাটি ধরে। এছাড়া ছােট আকারের ফুলগাছের জন্যে দরকার ৬ ইঞ্চি বা ১৫ সে. মি. আকারের টব। এই আকারের টবে আড়াই থেকে তিন কে.জি. মাটি ধরে।

ছােট টবে বড় গাছ এবং বড় টবে ছােট গাছ বেমানান। টবের সাইজ ও সংখ্যা ঠিক করার পর হিসেব করে বােঝা যাবে কতােটা পরিমাণ মাটি দরকার। তবে মাটি ভরার আগে টবগুলি জীবানুনাশক দিয়ে ভালাে করে ধুয়ে ফেলতে হয়।

Leave a Reply