স্কুলছুট কমাতে রাজ্যে কন্যাশ্রী প্রকল্প

রাজ্য সরকার কেন এই অনুদান দিচ্ছে তার কিছুটা ইতিহাস জেনে নেওয়া যাক। যেকোন প্রজেক্টের মুল বিষয় বা উদ্দেশ্য না জানা থাকলে সেই প্রকল্পের গুনগত মান যাচাই করার কোন মানেই হয়না। ২০০৬ সালে বাল্য বিবাহ আইন অনুযায়ী ১৮ বছর এর কম বয়সী মেয়েদের বিবাহযোগ্যা বলা হয় না, এবং একই আইনে ২১ বছরের নিচে কোন যুবকই বিবাহযোগ্য নয় আইন অনুযায়ী। কিন্তু আইন থাকা সত্বেও রুরাল এরিয়ায় কোনভাবেই বাল্য বিবাহ বিশেষ করে মেয়েদের ঠেকানো যাচ্ছিল না এবং আমাদের রাজ্য পাঁচ নং স্থানে ছিল সারা দেশের মধ্যে ২০০৭-০৮ সালের DLHS -3  এর রিপোর্ট অনুযায়ী ।  শুধু বিয়েই নয় বিয়ের অযোগ্য শারীরিক ও মানসিক অপূর্নতা থেকে মেয়েদের স্থান সমাজে নিম্ন থেকে নিম্নতর হইয়ে যাচ্ছিল। এছাড়াও বিয়ের নামে পাচার-চক্রও খুবই সক্রিয় হইয়ে উঠেছিল।  বাল্য বিবাহ এবং তার সাথে সাথে স্কুলে না যাওয়ার প্রবনতাও পশ্চিমবঙ্গে ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছিল। স্কুলছুট মেয়েদের শতকরা ৮৫% হয়ে গেছিল ৬-১০ বছরের মধ্যে এবং এই পরিসংখ্যান ১৫-১৭ বছরের বয়সিদের মধ্যে ছিল ৩৩%।  এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্যই হল সেই সব প্রান্তিক মেয়েদের পরিবার কে আর্থিক সাহায্য করা এবং সেই প্রাপ্ত রাশি দিয়ে তারা পরবর্তি শিক্ষা ব্যাবস্থায় যাতে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে। এবং এই শিক্ষা কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যই হল যাতে মেয়েটির বিয়ে ১৮ বছরের পরে হয়।

এই প্রকল্পের মধ্যে দুটি ভাগ আছে বা বলা যেতে পারে দুভাবে আমাদের রাজ্য সরকার সাহায্য করছে।

১. বার্ষিক বৃত্তিঃ অবিবাহিত মেয়ে যাদের বয়স ১৩ থেকে ১৮ এর মধ্যে এবং তাদের নাম আগে থেকেই স্কুলে নথিভুক্ত করা আছে তারাই এই বৃত্তির আবেদন করতে পারেন।  ফর্ম নাম্বার K1 .

২. এক-কালীন অনুদানঃ অবিবাহিত মেয়ে যাদের বয়স ১৮ হয়েছে ১-লা এপ্রিল-২০১৩ সালের নিরিখে, এবং যারা রেগুলার শিক্ষা গ্রহন করেছে কোন সরকারী বা ভোকেশনাল ট্রেনিং নিয়েছে তারাই এই সুযোগ পাবে। ফর্ম নাম্বার K2 .

কি কি ডকুমেন্ট লাগবে আপনার আবেদন করার জন্যঃ 

১. আবেদন কারীর ইনকাম সার্টিফিকেট যাতে প্রমানিত হয় পারিবারিক বার্ষিক আয় ১,২০,০০০ হাজার বা তার নিচে। এবং এর সাথে অবশ্যই আপনার মেয়ে যে অবিবাহিত তার স্ব-ঘোষিত আবেদন।

২. আবেদনকারী মা ও বাবা উভয় যদি মৃত ঘোষিত হয় তালে সংশ্লিষ্ট প্রশাষন আধিকারিকের স্বাক্ষর গ্রহনযোগ্য হবে।

৩. আবেদনকারীর বয়সের প্রমানপত্র, স্কুলের হেড মাস্টার কতৃক প্রদত্ত।

৪. আবেদনকারী যে স্কুলে পড়ে তার প্রমানপত্র, স্কুলের হেড মাস্টার কতৃক প্রদত্ত।

৫. আবেদনকারী যদি বিকলাঙ্গ বিভাগে পড়ে তালে তার প্রমান পত্র।

৬. বর্তমান ছবি।

আপনার আবেদন কারা মঞ্জুর করবেন বা কিভাবে মঞ্জুর হবেঃ

  • রাজ্য সরকার এর গ্রুপ A অফিসার যারা সেই জায়গায়  অর্থাত আমি যেখান থেকে আবাদন করেছেন সেই এরিয়াস্থিত।
  • মেম্বার অফ পার্লামেন্ট (MLA) করতে পারবে।
  • আপনি যদি মিনিউসিপাল এরিয়া তে থাকেন তালে সেই এরিয়ার কাউন্সিলর, গ্রাম পঞ্চায়েত ভিত্তিক এলাকা হলে অবশ্যই পঞ্চায়েত প্রধান পারবেন।

কন্যাশ্রী প্রকল্পের আবেদনএর ফর্ম কোথায় পাবেন? এই ফর্মটি অনলাইনে ফিলআপ হবে নাকি কাগজে?

আবেদনকারী রা দুটি ফর্ম-ই পাবেন আপনার বাচ্চা যে স্কুলে পড়ে সেখান থেকে। এবং এই ফর্মটি আপনাকে ফিলআপ করে সেই স্কুলেই দিতে হবে। ফর্মের সাথে অবশ্যই যা যা প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আছে তা একসাথে দিতে হবে। 

ফর্ম ফিলআপের জন্য আপনি কোথা থেকে সাহায্য পাবেন ও আপনাকে কি নতুন ব্যাঙ্ক এর খাতা খুলতে হবে?

ফর্ম ফিলআপের জন্য আপনাকে স্কুলের হেডমাস্টার সাহায্য করবে। হ্যা, কন্যাশ্রী প্রকল্পের টাকা পেতে আপনাকে নতুন খাতা খুলতে হবে যেটা সম্পূর্ন ভাবে স্কুলের পরিচালন কমিটি ও সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক স্কুলের ভিতর ক্যাম্প করিয়েও করবে। কিন্তু আপনি চাইলে যেকোন ব্যাঙ্কে নতুন খাতা খুলতে পারেন সেই ক্ষেত্রে স্কুলের হেডমাস্টারের পারমিশন অবশ্যই প্রয়োজন।

বার্ষিক বৃত্তি, Form K1:

এই ফর্মের মাধ্যমে আপনার কন্যা সন্তান বার্ষিক ৫০০ টাকা করে পাবে। তবে এই ক্ষেত্রে আপনার কন্য সন্তান কে অবশ্যই স্কুলে যেতে হবে এবং সেই স্কুলের কাগজ দেখিয়ে তবেই আপনি ফর্ম এর সাহায্যে আবেদন করতে পারবেন। কন্যা সন্তানের বয়স হতে হবে ১৩ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে ও পারিবারিক আয় হতে হবে ১,২০,০০০/- এর নিচে। কন্যা সন্তান অবশ্যই অবিবাহিত হতে হবে এবং তার প্রমান পত্র যা আপনাকে জেলা আধিকারিক দেবে। বার্ষিক বৃত্তি টি পাবে ক্লাস ৮ থেকে ১২ পর্যন্ত, এবং তাকে রেগুলার ক্লাস করতে  হবে।

এক-কালীন অনুদান, Form K2:

আপনার কন্যা সন্তান যখন ১৮ বছর সম্পূর্ন করবে সেই সময় সরকার কন্যা সন্তান কে ২৫,০০০ টাকা দিয়ে সাহায্য করবে। আবেদন করার জন্য Form K1 সব নিয়মাবলি প্রযোজ্য। 

আপনি কিভাবে জানবেন আপনার টাকা আপনার ব্যাঙ্কের খাতায় জমা পড়েছে?

প্রত্যেকবার জমা ও তোলার সময় ব্যাঙ্কের তরফ থেকেই জানানো হয় জমা রাশি ও খরচের রাশির পরিমান। ঠিক একই ভাবে কন্যাশ্রী প্রকল্পের টাকাও জমা পড়লে আপনি SMS পাবেন।

আপনি নিজে ট্র্যাক করুন আপনার ফর্ম কোন স্টেজে আছে বা কত দিনের মধ্যে আপনি টাকা পাবেন।

আপনার ফর্ম কে ট্র্যাক করার জন্য গুগুল প্লে-স্টোরে কন্যাশ্রী অ্যাপলিকেশন পেয়ে যাবেন সেখান থেকে আপনি ট্র্যাক করতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *