Introvert Personality Bolte ki Bojhay | Introvert Personality বলতে কি বোঝায়

Introvert Personality bolte ki bojhay বা বাংলায় লিখলে অন্তরমুখী স্বভাব চরিত্র বৈশিষ্ট মানুষ কারা, আসলে এই ধরনের মানুষগুলো নিজের মধ্যে থাকা সমস্ত Emotion নিয়ে বেচে থাকতে পছন্দ করে তারা বাইরের জগৎ থেকে বেশ আলাদাই থাকে। Extrovert এবং Introvert Personality পুরপুরি ভাবেই বিপরীত মুখী চরিত্র কিন্তু মজার ব্যাপার হল আমরা বেশীর ভাগ মানুষ-ই এই দুই চরিত্রের মধ্যে থাকি। অনেক সময় আমাদের এটাও মনে হতেই পারে হয়ত আমরা একই সাথে দুটি চরিত্র বহন করে চলেছি।

তবে এটা কখোনই ভাবা উচিত নয় যে Introvert Personality হলেই তারা সামাজিক ভাবে মিশতে পারবে না। সামাজিক ভাবে মিশতে না পারা সম্পূর্ন ভাবে আলাদা চারিত্রিক বৈশিষ্ট। তাই কম কথা বলা মানুষ গুলো কে সব সময় গুলিয়ে ফেলবেন না।

Introvert Personality মানুষ গুলো আসলে নিজের মধ্যে থাকা চিন্তা ও ভালোলাগা গুলো নিয়ে থাকতে ভালোবাসে।

“Introvert Personality bolte ki bojhay”

Introvert Personality Common Signs

১. দিনের বেশিরভাগ সময়ই একা থাকে বা একা থাকতে পছন্দ করে।

২. তারা ‘কি করছো?, কেমন আছো?, কি খেয়েছো?’ এই ধরনের সাধারন বিষয় বা প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করতে তেমন আগ্রহী নয়। সাধারনত এদের আগ্রহ থাকে জটিল জটিল বিষয়ে।

৩. এরা অনেক জটিল বিষয় সহজে বুঝতে পারলেও সহজ বিষয় বুঝতে কষ্ট হয় বেশি।

৪. অন্তর্মুখী মানুষগুলো তাদের ব্যাক্তিগত কথা অন্যকে বলা যেমনটা অপছন্দ করে অন্যের ব্যাক্তিগত কথায়ও তাদের তেমন একটা আগ্রহ থাকে না।

৫. অন্তর্মুখী মানুষগুলো যে সব সময় কম কথা বলে এমনটা নয়, এরা নিজেদের সাথে প্রচুর কথা বলে।

৬. অন্তর্মুখী মানুষগুলোর নিজের কথা বলতে কেবলমাত্র এক বা দুইজনের প্রয়োজন হয়।

৭. এরা প্রায়ই কথা বলতে বলতে নিজেকে গুটিয়ে ফেলে।

৮. অনেক কথা তারা ছোট্ট একটা হাসি অথবা দৃষ্টি বিনিময়ের মধ্যমেই করে থাকে। যদিও সবাই তার এই ভাষা বুঝতে পারে না।

৯. অন্তর্মুখী মানুষ যে কোনো অনুষ্ঠানে প্রায়ই অনুপস্থিত থাকে কোনো কারনে গেলেও তারা সুবিধামত কোনো এক কোণায় যেয়ে বসে যায়।

১০. এরা হাঁটতে পছন্দ করে এবং চলার সময় সাধারনত নিচের দিকে তাকিয়ে হাঁটে।

১১. রাস্তায় অপরিচিত দূর থাক পরিচিতদেরও খেয়াল করে না। খেয়াল করলেও আড়াল হওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে।

১২. এরা কিছু বলার চেয়ে তা লিখতে বেশি পছন্দ করে। এ কারনেই বোধহয় তাদের ফোনে কথা বলায় এতো অনীহা।

১৩. কারো সাথে কথা বলার সময় তার দিকে তাকিয়ে না থেকে অন্য কিছুর উপর দৃষ্টি রাখে। তবে তার মানে এই নয় যে তারা অমনোযোগী।

১৪. এদের ভূমিকা ছাড়াই যা বলার তা সরাসরি বলে দেয়।ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথা বলা এদের পছন্দ না।

১৫. কোনো ঘটনাকে যত উপায়ে সম্ভব বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করে।

১৬. সাধারনত নিজেদের কাজ নিজেরা করতে পছন্দ করে।

১৭. এরা প্রায়ই নিজেদের আবেগ অনুভূতিগুলো নিজেরাই বুঝতে পারে না অন্যকেও বুঝাতে পারে না।

১৮. এরা কিছু কিছু বিষয়ে ভীষণ সেনসেটিভ তাই এদের এইসব বিষয়ে না ঘাটানোই ভালো।

১৯. হঠাৎ আসা কল বা ম্যাসেজ এর notification কে এরা ভয় পায় ।

২০. এদের একই জায়গায় ঘন্টার পর ঘন্টা কাটানোর অদ্ভুত ক্ষমতা থাকে।

২১. এরা নিজেদের জীবনের কিছু পরিবর্তন করতে ততটা আগ্রহী নয়।

২২. অন্তর্মুখী ব্যাক্তির দিকে কেউ তাকিয়ে থাকলে তার অস্বস্তি ও বিরক্তি দুটোই লাগে।

২৩. এদের কাছে বিশেষদিন বলতে কিছু নেই সবদিন একই রকম।

২৪. অন্তর্মুখী ব্যাক্তি অনেকের মাঝে থেকেও একাকীত্ব অনুভব করে।

২৫. তাদের কেউ পছন্দ করলে তা তারা নিজেও বিশ্বাস করতে পারে না।

২৬. অন্তর্মুখী মানুষ প্রেমে পড়লে তার পছন্দের মানুষের সাথে প্রায়ই বহির্মুখীদের ( extrovert ) ন্যায় আচরন করে।

২৭. Public speaking এ সমস্যা হয় , বা অনেক ক্ষেত্রে পারলেও এড়িয়ে যায় । সত্যি বলতে তাদের বলার সুযোগ দিলে অন্তর্মুখীরা যথেষ্ট পরিনত কথা বলতে পারেন।

২৮. এরা অন্যের কষ্ট সহজেই বুঝতে পারে এবং সে অনুযায়ী সহমর্মিতা ও সাহায্য করার চেষ্টা করে।

২৯. এরা অন্যের সমালোচনা করার চেয়ে আত্মসমালোচনাই বেশি করে ফলে এরা নিজেকে জানেও বেশি।

৩০. এরা যে কোনো কাজ খুব মনোযোগের সাথে করে এবং তাতে নিজের সর্বোচ্চটা দেয়ার চেষ্টা করে।

৩১. কল রিসিভ করতে সময় নিয়ে থাকে।

৩২. অন্তর্মুখীরা সচরাচর বয়সের তুলনায় পরিণত মস্তিষ্কের হয়ে থাকেন (সচরাচর)।

৩৩. সব অন্তর্মুখী মানুষ লাজুক নন।

৩৪. তারা সাহায্য চাইতে লজ্জা পায় বলে, তাদের স্বনির্ভরতা বেশি।

৩৫. অন্তর্মুখীরা একে অন্যের খুব ভালো বন্ধু হতে পারেন যেহেতু তাঁরা একে অন্যকে বোঝেন।

৩৬. অনেক অন্তর্মুখী মানুষই চশমা পরেন। যেহেতু তাদের বাইরে যাওয়ার অভ্যাস কম, accommodative myopia র সম্ভাবনাও বেশি (আমি একেবারেই কোনো তর্ক করার মত কথা লিখতে চাইছি না)।

৩৭. প্রয়োজনে খোলামেলা যেসব কথা বলতে বহির্মুখী (extrovert) মানুষেরা অস্বস্তিতে পড়ে যান, অন্তর্মুখীরা তাতে অনেক বেশি দক্ষ হয়ে থাকেন।

৩৮. মত প্রকাশের থেকেও লিখতে বেশি পছন্দ করেন।

৩৯. বাইরে থেকে তাদের রুক্ষস্বভাবের ও অহংকারী মনে হয়, যা হয়তো ঠিক নয়।

৪০. তারাও বাইরে যেতে পছন্দ করে, কিন্তু সেই পছন্দ সচরাচর বহির্মুখী মানুষদের পছন্দের সাথে মেলে না।

৪১. তারা সমাজকে ঠিক ভয় পায় না, নিঃসঙ্গতাতে অভ্যস্ত হয়ে পরে।

৪২. প্রচুর লোকের কাছাকাছি থাকার ফলে তাদের শক্তি ড্রেইন হয় কিন্তু একা থাকলে মানসিক শক্তি বা ইচ্ছাশক্তি সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে।

৪২. তাদেরকে পরিবর্তিত হয়ে ভিড়ে কেউ গা ভাসাতে উপদেশ দিলে তারা ততটাই বিরক্ত হয় যতটা একজন ছটফটে, বহির্মুখী (extrovert) মানুষকে জোর করে চুপ করিয়ে দিলে, তাঁর লাগতে পারে।

৪৩. অন্তর্মুখী মানুষগুলো আসলেই একা। এদের বুঝার মত বেশি মানুষ থাকে না,যে যতটুকুই বুঝে তার অধিকাংশই ভুল বোঝে।

আর এইসমস্ত কারণের জন্যই তাদের বন্ধু সংখ্যা খুব বেশি থাকে না। কিন্তু যাদের সাথে থাকে তাদের সাথে একেবারে হৃদ্যতার সম্পর্ক বজায় থাকে 😊।

যারা এই পোষ্টটি সম্পূর্ণ পড়লেন তারা হয়তো উপরের বৈশিষ্ট্য গুলোর সাথে নিজের অনেক মিল খুঁজে পেতে পারেন। হয়তো না জানতেই আপনিও একজন ইন্ট্রোভার্ট !! 😊

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *