How to Control your mind in Bengali | মনকে নিজের কাছে রাখা

সংসার বা এই জীবন চক্রে অনেক সময়ই আমরা লক্ষ্য হারিয়ে ফেলি ঠিক যেমন বড় বড় জাহাজ মাঝ সমুদ্রে তার দিশা হারিয়ে ফেলে। জীবনের চড়াই উৎরাই এর পথে আমরা নিজেদের স্থির রাখতে প্রায়শই ব্যার্থ হই। দোষ দিয়ে থাকি একে অন্যকে। কিন্তু কখোনই ভেবে দেখিনা নিজেদের কি করার ছিল বা করা উচিত। কারন আমরা নিজেদের সঠিক ভাবে জানতে ও বুঝতে পারিনা।

নিজে যদি নিজেকে বুঝতে বা নিজের ক্ষমতা বুঝতে না পারি তালে সমাজে চলার পথে আমাদের ই সমষ্যা বাড়ে। নিজে নিজেকে বুঝে আমরা আমাদের আয়ত্ব বা সীমা বাড়ানোর পরিকল্পনা করে চললে অবশ্যই আমরাও একদিন সফল হতে পারব।

How to control your mind in bengali – আসলে এই ধরনের অনেক বই বা লেখা আমরা প্রায় সব ধরনের Social Media তেই দেখি ও পড়ি। কিন্তু কখোনই সেটা নিজের করে উঠতে পারিনা কারন আমাদের পারিপার্শিক ব্যাবস্থা বা অব্যাবস্থা এর জন্য। অনেক সময়ই আমরা নিজেদের কেই গুলিয়ে ফেলি সব কিছুর সাথে সব কিছু বুঝেও।

মনকে সাবলীল ও শক্ত করতে ও এই পৃথিবীতে থাকা সমস্থ শক্তিকে নিজের কাজের উপযোগি করার জন্য যে গুন গুলি থাকা অবশ্যই প্রয়োজন, একগ্রতা, স্মৃতিশক্তি, পরিকল্পিত প্ল্যান, ইতিবাচক চিন্তা বা হ্যাঁ বাচক চিন্তা, ভাবাবেগ কমানো

একাগ্রতা – Consentration:

concentration

ব্যায়াম যেমন শরীরকে মজবুত করে, তেমনই মনোযোগ মানষিক শক্তি বৃদ্ধি করে। মনোযোগ বাড়ানোর সেই ভাবে কোন ম্যাজিক কেউই বলে দিতে পারবে না কিন্তু আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ই আমাদের কে মনোযোগ কে বাড়াতে সাহায্য করবে। যেমন আপনি যখনই কোন কাজ করছেন সেটা যতই ক্ষুদ্র হোক না আপনাকে খুব যন্ত নিয়ে কাজটি করতে হবে। যেমন, ফল খাওয়ার সময় শুধু তার রস আস্বাদন করতে হবে, অন্য কিছু নয়। স্নানের সময় অবগাহনের সম্পূর্ণ অ্যানন্দ উপভোগ করতে হবে স্নানের ষোলআনা উপযোগিতা পাওয়ার জন্য। বই পড়ার সময় শুধুই বইপড়ার আনন্দে মজে যাও, অন্য সব বিষয় ভুলে যাও। আর অবশ্যই কম ভালোলাগার বিষয় মনোযোগ অভ্যেস করতে হবে। ফলে মনের উপর নিয়ন্ত্রন করতে শিখবে। অন্য ভাবে বলতে গেলে, মনোযোগ বা একাগ্রতা হচ্ছে তাৎক্ষনিক বিষয়ে নিবিষ্ট থাকা, যা কিনা জীবনে সুখ ও উন্নতিলাভের আবশ্যিক শর্ত।

স্মৃতিশক্তি – Memory Power Practice:

memory power

মনােনিবেশের সাথে সাথে এক লহমার প্রয়ােজনে মনকে কোনাে বিষয়বস্তুর থেকে বিচ্ছিন্ন করারও পারদর্শিতা থাকতে হবে। কিছু মানুষ তা পারে না, পরের বিষয়বস্তুতে মনােনিবেশ করলেও আগের বিষয়কে সহজে ভুলতে পারে না। অনাবশ্যকভাবে আমরা বিভিন্ন বিষয়ে জড়িয়ে পড়ি যা কিনা অনভিপ্রেত বা অনাবশ্যক। আমাদের জগৎ একটি বিশাল বিদ্যালয়। আমাদের বিকাশ ও অগ্রগতির জন্য যা কিছু শেখা দরকার তার প্রয়োজন মেটায় পার্থিব বস্তু ও পরিবেশ। এমনিতে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বস্তুর কোনাে গুরুত্ব নেই। সুতরাং এদের আমরা ব্যবহার করব শুধু নিজেদের বিকাশের জন্য কিন্তু এদের বন্ধনে আমরা আবদ্ধ হব না। এদের থেকে উপযুক্ত শিক্ষা আহরণ করে এদের ভুলতে হবে ও বর্জন করতে হবে। মনােনিবেশ ও বৈরাগ্য একই সাথে শিখতে হবে। স্বামী বিবেকানন্দ এই বিষয়টির উপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন। অনভিপ্রেত অতীতকে ভুলে যাওয়া ও তার থেকে বিচ্ছিন্নথাকা জীবনে সাফল্য অর্জনের জন্য একটি অন্যতম গুণ। কখনও সখনও মনে রাখার প্রয়ােজন থাকলেও, বেশীরভাগ সময় ভুলে থাকা বিজ্ঞের পরিচয়।

পরিকল্পিত প্ল্যান – How to execute a constructive plan:

constructive plan

সবসময় যেন তােমার চিন্তাভাবনা একটি সুষ্ঠ পরিকল্পিত রূপ অর্জন করে এবং বিক্ষিপ্ত ও অগােছালাে না হয়। বিক্ষিপ্ত উদ্ভট চিন্তাভাবনা ও দিবাস্বপ্ন দুর্বল মনের পরিচয় দেয় আর প্রকাশ করে যে অবচেতন মনকে (মস্তিষ্কের যে অংশে তােমার ইচ্ছা, তাগিদ, প্রবণতা জমা থাকে) নিয়ন্ত্রনের বদলে তুমিই এদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছাে। তােমার সচেতন মন সম্পূর্ণ কর্মক্ষমসম্পন্ন, সদা। জাগ্রত থেকে অবচেতন মনকে ভৃত্যের মত নিয়ন্ত্রণে রাখবে। নেতিবাচক চিন্তা, আলস্য, দিবাস্বপ্নকে প্রশ্রয় দিলে অবচেতন মন সচেতন মনের উপর প্রভাব বিস্তার করবে। যেসব আবশ্যিক চিন্তাধারা যে সময় ও মূহুর্তে জরুরী তাদেরই মনে ঠাই দেওয়া নিশ্চিত কর । একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, জীবনের অধিকাংশ সময় নিষ্ফল চিন্তায় ব্যয়িত হয়। একে (চিন্তাকে) সঠিক খাতে প্রবাহিত করলে অনেক সুফল পাওয়া যায়।

ইতিবাচক চিন্তা বা হ্যাঁ বাচক চিন্তা – Positive Thinking:

positive thinking

কীভাবে আমরা চিন্তা করব, এ বিষয়টিকে সবসময় আমরা কম গুরুত্ব দেই। ব্যক্তিত্ব ও চরিত্রগঠনে এটি এককভাবে সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। জগতে সব ঘটনাকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখতে শেখ। এমনকি অশুভ  ঘটনাকেও একইভাবে দেখতে শেখ। নেতিবাচক চিন্তা  মনকে  দুর্বল, চঞ্চল, উদ্বেলিত ও অশুদ্ধ করে। মনকে মানিয়ে নিয়ে নেতিবাচক চিন্তাকে ইতিবাচক চিন্তায় পরিবর্তন কর। কি ভাবে করা যায় তার একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। 

মনে কর কেউ রাগের মাথায় তােমায় খুব গালমন্দ করল ও কুকথা বলল, তখন তার সম্বন্ধে খারাপ ধারণা না করে মনে করবে তার মন খুবই অশান্ত অথবা সে প্রাপ্তবয়স্ক নয়, সেজন্য তার এই খারাপ আচরণ। তা স্বত্ত্বেও এই ব্যক্তির প্রতি কোনাে খারাপ ধারণা মনে স্থান দিওনা। এটাই ইতিবাচক চিন্তাধারা। এমনটি অভ্যাস করলে জাগতিক নিয়মে সমস্ত ঘটনা ও পরিবেশ তােমার অনুকুল হবে ও তােমার চিন্তাধারা অনুসারে আকর্ষিত হবে। যেমন, বারবার একটি রােগ হবে বলে ভয় পেলে পরর্বতীকালে সে রােগে আক্রান্ত হবে ও সে রােগের সকল লক্ষণ তােমার শরীরে দেখা দেবে। চিন্তাশক্তি এতই বলবান। একটি শক্ত পাথরের মতই ইহা বাস্তব ও সত্য। ইতিবাচক অবস্থানে একটি কম্পনশীল রশ্মির ছটা তােমাকে ঘিরে থাকে যা তােমার চারপাশে সকলের পক্ষেই উপকারী। উপরন্তু এই রশ্মি তােমাকে নেতিবাচক মানুষের প্রভাব থেকে রক্ষা করে।

ভাবাবেগ কমানো – Stop Day Dreaming:

stop day dream

আমাদের কষ্টের মূল কারণ হচ্ছে যে কোনাে ঘটনা, পরিস্থিতির সাথে আবেগবশত জড়িয়ে পড়া। এর একমাত্র সমাধান হল নিরাসক্ত ও নিরপেক্ষভাবে জাগতিক ঘটনা ও সমস্যার অনুধাবন ও সমাধান। যেন আমি একজন নিরপেক্ষ দর্শক – ওই ঘটনার থেকে আলাদা ও আমি ওসবের সাথে অস্থায়ীভাবে জড়িত। পার্থিব বস্তুকে বেশী গুরুত্ব দিলেই মনের আবেগ তার সাথে জড়িয়ে পড়ে যা কখনই হতে দেওয়া উচিত নয়। আমাদের জানা উচিত কোনাে কঠিন পরিস্থিতি বা সমস্যা স্থায়ী নয়। একসময় সবই পরিবিৰ্তত হবে। এটাই নিয়ম। জগতে সবকিছুই নিয়মিত পরিবর্তনশীল ও গতিশীল। কোনাে কিছুই এ জগতে স্থায়ী নয়।

সবকিছুতে অতিরিক্ত মাথা ঘামালে অবচেতন মন অবসাদগ্রস্থ হতে পারে যার থেকে নানারকম অবাঞ্ছিত প্রবণতা ও একপেশে ধারনা হয় যা কিনা স্বচ্ছ বিচারবুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে সঠিক বিচারবুদ্ধিকে প্রকাশিত হতে বাধা দেয়। অন্যভাবে বলতে গেলে, সকল আবেগ – যেমন পছন্দ, অপছন্দ, ঘৃণা, ঈর্ষা, প্রতিহিংসা ইত্যাদিকে ক্রমাগত মূল থেকে উৎপাটন করতে হবে। ফলস্বরূপ একটি সত্যকারের আবেগরহিত, স্বচ্ছ বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন, দরাজ ও নিরাসক্ত মনের জন্ম হবে যা কিনা জীবনযুদ্ধের পরীক্ষায় মনকে রাখবে শান্ত, সংযত ও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এই ধরনেই লেখা অবশ্যই আপনি আমনার বন্ধুদের মধ্যে শেয়ার করবেন ও আরো লেখা পড়তে আমাদের ব্লগ ফলো করবেন।

How to control your mind in bengali – এখানে এইভাবে শেষ হয়না। আসলে আমরা অন্যের কথা ভাবতে ভাবতে নিজেদের কথাই ভুলে যাই সব সময়ই। সব ধরনের কোয়ালিটি একটা মানুষের মধ্যে থাকেনা কিন্তু আমদের প্রচেষ্টা থাকবে সবসময় নিজেকে মানষিক ও শারীরিক দুই দিক থেকে উন্নত ও উন্নততর করে যাব। তাই আমার এই লেখে এখানেই শেষ নয় এই লেখা চলবে। বিস্তারিত পড়তে ও জানতে নিচের লেখা গুলো পড়ুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *