Site icon Friendly Status

Voyger-1 a Pandora box with lots of love from Earth – Voyger-1 এর জন্য আমাদের ইতিহাস

voyager-1

Voyger-1 নামক স্পেসক্রাফটটি (Spacecraft) পৃথিবী ত্যাগ করেছে ১৯৭৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বরে। তারপর ৪৪ বছর কেটে গেছে। ৮২৫ কিলোগ্রাম ওজনের ভয়েজার-১ আর পৃথিবীর মধ্যকার দুরত্ব এখন প্রায় ১৪ বিলিয়ন মাইল! ‘লং ডিসটেন্স রিলেশনশিপ'(Long Distance Relationship) এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হয়ে ভয়েজার-১ এখনও পৃথিবীর মানুষের সাথে যোগাযোগ রেখে চলেছে।

ভয়েজার-১ বৃহস্পতি গ্রহকে অতিক্রম করেছে ১৯৭৯ সালে। যাত্রাপথে সে আমাদের পাঠিয়েছিল বৃহস্পতির ছবি। আমরা দেখেছি দানবগ্রহ বৃহস্পতির বুকে ১৮৮ বছর ধরে বয়ে চলেছে এক দানবঝড় – বৃহস্পতির দ্য গ্রেট রেড স্পট (Saturn – The Great Red Spot)। এই ঝড়ের আয়তন তিনটে পৃথিবীর সমান।

Voyger-1 / ভয়েজার-১ শনি গ্রহ অতিক্রম করেছে ১৯৮০ সালে। ভয়েজার আমাদের জানিয়েছে শনিকে প্রদক্ষিণ করছে অনেকগুলো বরফের তৈরী চাঁদ, শনির আছে কয়েক হাজার বলয়। ভয়েজার তাঁর সর্বশেষ ছবিটি তুলেছিল ১৯৯০ সালের ভালোবাসার দিবসে। অর্থাৎ ১৪ ফেব্রুয়ারিতে। সর্বশেষ এই ছবিটি ভয়েজার তুলেছিল কার্ল স্যাগান নামক একজন খেয়ালী বিজ্ঞানীর অনুরোধে।

কার্ল স্যাগান’-এর নামটি ভয়েজার১-এর সঙ্গে মিশে আছে একটু ভিন্নভাবে। সংক্ষেপে বলা যাক। ভয়েজার-১ তৈরির কাজ তখন প্রায় শেষ। নাসা দ্রুত ভয়েজারকে অনন্ত মহাশূন্যের উদ্দেশ্যে বিদায় জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ৪০ বছর বয়েসী কার্ল স্যাগান তখন ভাবলেন একটু ভিন্ন ব্যাপার। তিনি ভাবলেন, এই স্পেসক্রাফটটি তো চলতেই থাকবে। এর গতি কমবে না, বরং বাড়বে। এক সময় এটা আমাদের সৌরজগতকে ছেড়ে চলে যাবে। হয়তো ছেড়ে যাবে আমাদের মিল্কিওয়ে ছায়াপথকেও। এমনও সময় আসবে যখন ভয়েজার থেকে আমাদের দূরত্ব হবে কয়েক হাজার আলোকবর্ষ। এই দূরতম বন্ধুর সাথে আমাদের আর কোনো যোগাযোগই তখন থাকবেনা। কে বলতে পারে এই Voyger-1 কোনও দিন কোনও বুদ্ধিমান প্রাণীর দেখা পাবে না। কী হবে যদি কয়েক কোটি আলোকবর্ষ দূরের কোনো স্বজনের সাথে দেখা হয় ভয়েজারের। কার্ল স্যাগান দূরতম সেই স্বজনদের জন্য বার্তা এবং উপহার পাঠাতে চাইলেন। নাসায় কমিটি তৈরী করা হল। স্যাগান হলেন কমিটির প্রধান। এক বছর ধরে চলল ভিনগ্রহের স্বজনদের জন্য বার্তা সংগ্রহের কাজ। ৫৫ টি ভাষায় ‘হাই’ জানানো হলো দূরতম স্বজনদের।

প্রথম জানালেন, তৎকালীন জাতিসংঘের মহাসচিব কার্ট ওয়াল্ডহেইম। তিনি বললেন, “I send greetings on behalf of the people of our planet. We step out of our Solar system into the universe seeking only peace and friendship, to teach if we are called upon, to be taught if we are fortunate.”

আছে বাংলা ভাষাও। কন্ঠ দিয়েছেন মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জি। তিনি বলেছেন “নমস্কার, বিশ্বের শান্তি হোক”

পাঠানো হল বৃষ্টির শব্দ, বাতাসের শব্দ, হাসির শব্দ। হেসেছিলেন কার্ল স্যাগান নিজেই। পাঠানো হল পাখির ডাক, ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, হাম্পব্যাক তিমির ডাক বা গান। ভয়েজার-১এর সঙ্গে পাঠানো হল ৯০ মিনিট দীর্ঘ গান এবং সুর। এর মধ্যে ছিল সাড়ে তিন মিনিটের একটি ভারতীয় সুরও, গেয়েছিলেন কেশরবাঈ কেলকর।অচেনা স্বজনদের জন্য ছবি পাঠানো হল ১১৬টি। এর মধ্যে আছে আমাদের ডিএনএ-র ছবি, হাড়ের ছবি, পাখির ছবি, সূর্যোদয়ের ছবি, সূর্যাস্তের ছবি, নারীপুরুষের ছবি, মিলনের ছবি, খাওয়ার ছবি, পান করার ছবি, শিশুকে স্তন্যপান করানোর ছবি। যুদ্ধ আর অস্ত্রের ছবি পাঠানোর কথা থাকলেও সেসব পাঠানো হয়নি। কার্ল স্যাগান তখন ভয়েজার-১এর জন্য ‘গোল্ডেন রেকর্ড’ তৈরির কাজে দিনরাত ব্যস্ত এবং ভীষণ উত্তেজিত। একদিন ভোরবেলা তিনি তার সুন্দরী সহকর্মী অ্যান ড্রুয়ানকে ফোন করলেন। কিছুক্ষণ কথা বলার পর ফোন রেখে দিলেন। ফোন রাখার পর স্যাগান আবিষ্কার করলেন, তিনি ড্রুয়ানের প্রেমে পড়েছেন! স্যাগান মনের কথা জানালেন ড্রুয়ানকে। ড্রুয়ান জানালেন, তিনিও…।এরপর কার্ল স্যাগান করলেন আরেক ছেলেমানুষী কাজ। তিনি তাঁর প্রেমিকাকে এক ঘন্টা চুপচাপ শুয়ে থেকে পৃথিবীর কথা, মানব সভ্যতার কথা এবং স্যাগানের প্রতি তাঁর ভালোবাসার কথা ভাবতে বললেন। বেচারী ড্রুয়ান এক ঘন্টা চোখ বন্ধ করে এসব ভাবলেন। এই সময় তাঁর ব্রেইনওয়েভ রেকর্ড করা হল।

এই ব্রেইনওয়েভও জুড়ে দেওয়া হল Voyger-1 এর সঙ্গে। Voyger-1 ৪৪ বছর ধরে ছুটছে…..যাত্রার ১৩ বছর পর, ১৯৯০ সালে ভয়েজার-১ তখন পৃথিবী থেকে ৬ বিলিয়ন কিলোমিটার দূরে। আমাদের সৌরজগতকে শুভ বিদায় জানাচ্ছে এই স্পেসক্রাফট। কার্ল স্যাগান তখন তাঁর শেষ পাগলামিটা করলেন। নাসার বিজ্ঞানীদের তিনি অনুরোধ করলেন এত দূরত্ব থেকে ভয়েজার-১ পৃথিবী নামক গ্রহের একটা ছবি তুলে পাঠাক।অনেক বিজ্ঞানীরই আপত্তি ছিল। তাঁরা বলেছিলেন ভয়েজারের ক্যামেরা পৃথিবীর দিকে ঘোরালে সূর্যের আলোতে সেটার ক্ষতি হতে পারে। কিন্তু স্যাগানের অনুরোধে শেষবারের মতো পৃথিবীর ছবি তুলেছিল ভয়েজার-১।

একটা বিন্দুর চেয়েও ছোট দেখাচ্ছিল আমাদের প্রিয় পৃথিবীকে! কার্ল স্যাগান মারা গেছেন ১৯৯৬ সালে।ভয়েজার -১ আমাদের সৌরজগতকে চির বিদায় বলেছে ১৯৯০ সালেই। হেলিওশিথকে বিদায় বলেছে ২০১২ সালে। ভয়েজার-১ এখন আছে ইন্টারস্টেলার স্পেসে। নিঃসীম শীতল অন্ধকারে ঘন্টায় ৬২ হাজার কিলোমিটার বেগে ছুটে চলেছে ভয়েজার-১। আর কয়েকটা বছর মাত্র।

তারপর আমরা সব যোগাযোগ হারিয়ে ফেলব আমাদের দূরতম এই বন্ধুটির সঙ্গে। … এবং তারপর কোথায় যাবে ভয়েজার-১, কোথায় থাকবে আমাদের প্রিয় গ্রহের কয়েক কিলোবাইট স্মৃতি আমরা জানতে পারবো না কোনও দিনও। ভয়েজার-১ মিশনের ৪৪ বছর পূর্ণ হয়েছে। নাসা তাদের ওয়েব সাইটে ১৪ বিলিয়ন মাইল দূরের বন্ধুর স্মরণে পোস্টার প্রকাশ করেছে,

“ভালো থেকো ভয়েজার-১ / Voyger-1তোমার জন্য ভালোবাসা” …।

এই ধরনেই লেখা অবশ্যই আপনি আপনার বন্ধুদের মধ্যে শেয়ার করবেন ও আরো লেখা পড়তে আমাদের ব্লগ ফলো করবেন।

Voyger-1 a Pandora box with lots of love from Earth – Voyger-1 এর জন্য আমাদের ইতিহাস

More Topics in Science and Geography

Exit mobile version